মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ফলে ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বাণিজ্য প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোয় শস্য আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ইরান চাবাহার বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা ঘাটতি মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সৌদি আরবগামী শস্যবাহী জাহাজগুলোকে এখন ভূমধ্যসাগর হয়ে লোহিত সাগর দিয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ ও ঝুঁকি দুই-ই বেড়েছে।
শস্যের পাশাপাশি সার খাতেও বড় ধরনের আঘাত এসেছে। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে নাইট্রোজেন সার বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। কিন্তু বর্তমান সংকটে এ অঞ্চলের বন্দরগুলোয় দুই লাখ টনেরও বেশি সার নিয়ে অন্তত ৪০টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এ বড় অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে সারের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় প্রতি টন ইউরিয়া সারের দাম ১ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
সারের এ সংকট এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোয় ফসল চাষের মূল মৌসুম চলছে। এশিয়ার ধান, যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা এবং ভারত ও চীনের তুলা চাষের জন্য এখন প্রচুর নাইট্রোজেন সার প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চড়া দামের কারণে কৃষকরা সার ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ফসলের ফলনে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা উৎপাদন স্বাভাবিক হারের চেয়ে কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারের এ পরিস্থিতি কৃষকদের ফসল নির্বাচনের সিদ্ধান্তকেও বদলে দিচ্ছে। অতিরিক্ত খরচের কারণে চাষীরা এখন ভুট্টা চাষ কমিয়ে সয়াবিনের দিকে ঝুঁকছেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই এবার প্রায় ১০ লাখ একর জমিতে ভুট্টার পরিবর্তে সয়াবিন চাষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর বাইরে বৈরী আবহাওয়াও শস্য বাজারের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তীব্র ‘এল নিনো’র আশঙ্কা রয়েছে ৯৮ শতাংশ। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় খরা দেখা দিতে পারে, যা দেশটির গম উৎপাদনকে বড় ঝুঁকিতে ফেলবে। একই সঙ্গে ব্রাজিলে খরা পরিস্থিতি চলতে থাকায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।